বাঁকুড়া জেলার পটশিল্পীদের পরিচয় : একটি ক্ষেত্রসমীক্ষামূলক অনুসন্ধান

- Advertisement -
- Advertisement -

লেখকঃ-শ্রী সুখেন্দু হীরা, প্রাক্তন পুলিশ সুপার, বাঁকুড়া জেলা। বর্তমানে ডিসিপি, কলকাতা রিজার্ভ ফোর্স।

বাংলার লোক সংস্কৃতির একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ – পটচিত্র; তৎকালীন প্রাচীনকাল থেকে প্রবহমান এই লোক সংস্কৃতির ধারায় পটচিত্রের মাধ্যমে যেমন ফুটে উঠত পৌরাণিক দেবদেবীর কাহিনী তেমনি লোক সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, সমাজচিত্রও, পটচিত্র ও পটের গানের মাধ্যমে বিবৃত হয়ে আসছে। আজকের এই নিবন্ধে পশ্চিমবাংলার বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া জেলার পটশিল্পীদের পরিচয় ইতিহাস বিষয়ে আমরা জানবো। আমাদের সামনে সেই কথা তুলে ধরলেন বাঁকুড়া জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার ও বর্তমানে কলকাতা রিজার্ভ ফোর্স এর ডিসিপি মাননীয় সুখেন্দু হীরা মহাশয়।  

পটচিত্রের ইতিহাস অতি প্রাচীন। ‘পটচিত্র’ যাঁরা আঁকেন তাদের পটুয়া, পোটো, পটিদার (ওড়িশা), চিত্রকর বলা হয়। পটশিল্পী বা চিত্রকরদের উৎপত্তির একটি কাহিনি আছে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ও অপ্সরা ঘৃতাচীর ঔরসে নয় পুত্রের জন্ম হয়—মালাকার, কর্মকার, শঙ্খকার, কুন্দিবক (তন্তুবায়), কুম্ভকার, কাংস্যকার, সূত্রধর, চিত্রকর ও স্বর্ণকার। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় পটশিল্পীরা বসবাস করেন। আমাদের ক্ষেত্রসমীক্ষার স্থান ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলা, যেখানে সাতটিরও বেশি স্থানে পটশিল্পীরা বসবাস করেন ও পট আঁকেন।

বেলিয়াতোড় (থানা-বেলিয়াতোড়)

পটুয়াদের কথা বললেই প্রথমে আসবে বেলিয়াতোড়ের পটুয়াদের কথা। বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী যামিনী রায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এই পটুয়াদের কাছ থেকে। বেলিয়াতোড়ের পটপাড়ায় এখন আর কেউ পট আঁকেন না। কয়েকজন পটুয়াদের বংশধরদের খোঁজ পাওয়া গেছে বেলিয়াতোড়ে, অন্যেরা জীবিকাসূত্রে অন্যত্র বসবাস করে। যারা থাকেন তাঁরা হলেন—রাধা চিত্রকর, চন্দন চিত্রকর, দীপক চিত্রকর, নিলু গায়েন এবং দুঃখভঞ্জন চিত্রকর।

গেরামডিহি (থানা-বাঁকুড়া)

গেরামডিহি গ্রামটি (আঁচুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত) আদিবাসী অধ্যুষিত। তার মধ্যে তিনঘর চিত্রকর পরিবারের বাস। এরা হলেন—বিশ্বনাথ চিত্রকর, সাগর চিত্রকর ও সুশীল চিত্রকর। গ্রামে চার পুরুষের বাস। ঠাকুরদার বাবা-মা আসেন রামকানালি (রঘুনাথপুর থানা, পুরুলিয়া) থেকে। এঁদের সঙ্গে নোয়াডিহি গ্রামের (থানা- হীড়বাঁধ, বাঁকুড়া) কুটুম্বিতার সম্পর্ক আছে। আগে পট নিয়ে নয়া (পিংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর), মাজরা মুড়া (থানা-কাশীপুর, পুরুলিয়া) যেতেন, ছবি দিয়ে আসতেন, ঐখান থেকে ছবি বিক্রি হত। এখন পট বিক্রি হয় না। তবে ‘চক্ষুদান’ বা অন্যান্য কাহিনি শোনানোর জন্য প্রয়োজনে পট আঁকেন। তাও বহুদিন আঁকেন নি। বাউরি ও সাঁওতালরা চক্ষুদান পট শোনে তাদের আত্মীয় মারা গেলে। লেদাশোলের (পুয়াবাগানের নিকট, থানা-বাঁকুড়া) গয়লারা কৃষ্ণপট, মদনমোহন পট শোনেন। এরা কান ফোটায় তামার মাকড়ি দিয়ে। বিনিময়ে পায় এক পাই চাল আর পাঁচ টাকা। এঁদের ঝুলিতে আছে সাঁওতাল পট, যমপট, কৃষ্ণপট ও মদনমোহন পট। সবই প্রায় বিবর্ণ। বর্তমানে এরা ভাগচাষের কাজ করেন। আর মাঝে মাঝে ডাক পেলে পট নিয়ে গান শোনাতে যান কাছাকাছি আদিবাসী, বাউরি ও গয়লাদের বাড়িতে।

তালগোড়া (থানা—রানীবাঁধ)

রানীবাঁধ থানার অদূরে তালগোড়া গ্রামে কিছু চিত্রকর পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে প্রবীণ ব্যক্তি হলেন শঙ্কর চিত্রকর (বয়স ৬৪)। এর পিতা মাহিন্দি চিত্রকর পুরুলিয়া জেলার জড়াবাড়ি গ্রাম থেকে (থানা বোরো) এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। এর পাঁচ সন্তান—বিশ্বনাথ, শংকর, সুকদেব, বীরবল ও সুবল। এঁদের মধ্যে শংকর চিত্রকর জীবিত। এর দুই ছেলে বিবাহিত। তালগোড়ায় মোট চিত্রকর পরিবার সাত—শম্ভু চিত্রকর, রবীন্দ্রনাথ চিত্রকর, গৌতম চিত্রকর, রঞ্জিত চিত্রকর, পারু চিত্রকর, দিলীপ চিত্রকর ও জিতেন চিত্রকর।

এঁদের কেউ ছবি আঁকেন না। শংকর ছবি আঁকতেন। এখন বয়সের কারণে বন্ধ। সবাই প্রায় লেবারের কাজ করেন। রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব ধর্ম নিয়ে গান করে বেড়ান। লোকশিল্পী দল তৈরি করে গান বাঁধেন ও অনুষ্ঠান করেন। পারু চিত্রকর মুরগী কাটেন। জিতেন শ্বশুর বাড়িতে (ভাদশা গ্রাম, থানা—কেন্দা, পুরুলিয়া) থাকে। সেখানে থেকে সে পটের গান শুনিয়ে বেড়ায়। শংকরের বোন কমলা চিত্রকর দারুণ আদিবাসী পট গেয়ে শোনাতে পারেন। উনি কান ও নাক ফোটাতেও ওস্তাদ। পট গেয়ে শোনাতে পারেন শংকর, রঞ্জিত ও জিতেন।

তুর্কিডাঙ্গা (থানা—বিষ্ণুপুর)

তুর্কিডাঙ্গা সেনহাটি কলোনি (ওয়ার্ড নং-১৮, বিষ্ণুপুর পৌরসভা)-তে কয়েকঘর চিত্রকর পরিবার বসবাস করেন। এরা হলেন—তুলসী চিত্রকর, রঞ্জিত চিত্রকর, বুলবুলি চিত্রকর, লক্ষ্মী চিত্রকর, ছায়া চিত্রকর এবং যশোদা চিত্রকর। পুরুলিয়ার মানবাজার বা টাটার দিক থেকে বলাই চিত্রকর ও তাঁর স্ত্রী রমণী চিত্রকর এই তুর্কিডাঙ্গাতে এসে ডেরা বাঁধেন। তাঁদের বংশধর এরা। বলাই ছবি আঁকতেন। পরের প্রজন্মে বাবলু ছবি এঁকেছেন। আর কেউ ছবি আঁকেন না। বুলবুলির স্বামী অনিল অবশ্য টাটায় থাকেন, সেখানে পট দেখিয়ে উপার্জন করেন। মাঝে মাঝে এখানে আসেন। এরা সকলে জেনারেল কাস্ট, সরয়াক্রি সাহায্যে বাড়ি কেউ পায়নি। এখনও তাঁরা কেউ মাধ্যমিক পাশ করেনি। কয়েকটি মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ছে, ছেলেরা সবাই রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। তুলসি, বুলবুলি কান, নাক ফোটাতে পারেন। সাধারণত মকর সংক্রান্তিতে ফোটায়।

ভরতপুর (থানা—ছাতনা)

বিখ্যাত শুশুনিয়া পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই গ্রাম। মোট নয় জন শিল্পীর খোঁজ পাওয়া যায় ঐ গ্রাম থেকে। এরা হলেন—বাসুদেব চিত্রকর, সহদেব চিত্রকর, রাধাই চিত্রকর, শম্ভুনাথ চিত্রকর, ভাগবত চিত্রকর, প্রাণকৃষ্ণ চিত্রকর, বরেন চিত্রকর, অনিল চিত্রকর ও রবিলাল চিত্রকর। এরা এখনো গ্রামে গ্রামে ঘুরে পটের গান শোনান ও মাঙ্গন করেন। মাঙ্গন অর্থাৎ ভিক্ষা করেন। চক্ষুদান পট দেখিয়ে আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে আদিবাসীদের মৃত্যুর পর আত্মার মুক্তির ব্যবস্থা করে। এছাড়া এঁদের কাছে যমপট, আদিবাসী পট, কৃষ্ণলীলা পটও পাওয়া যায়। এরা পুরুলিয়া, বর্ধমান পর্যন্ত পট দেখাতে নিয়ে যায়। ভরতপুরের চিত্রকরেরা এসেছেন ছাতনা থানার কালীপাহাড়ী গ্রাম থেকে।

কালিপাহাড়ী (থানা—ছাতনা)

ছাতনা থানা রারেকটি গ্রাম কালিপাহাড়ী। এ গ্রামে এখন কেউ ছবি আঁকেন না। এই গ্রামের চিত্রকর পরিবারগুলি হল— দীনবন্ধু চিত্রকর, সুভাষ চিত্রকর, দুর্গাদাস চিত্রকর, সুধাকর চিত্রকর, সন্তোষ চিত্রকর, নরেন চিত্রকর, অসিত চিত্রকর, গণেশ চিত্রকর, রাজীব চিত্রকর, বিকাশ চিত্রকর, ভজহরি চিত্রকর, শ্রীহরি চিত্রকর, রাজু চিত্রকর, প্রভাষ চিত্রকর, মহেশ্বর চিত্রকর, অজিত চিত্রকর। এঁদের মধ্যে পাঁচজন গ্রামে ঘুরে ঘুরে কান ফুটো করে বেড়ান। কালিপাহাড়ীর চিত্রকরদের বক্তব্য, তাঁদের এখানে চারপুরুষের বাস তবে আদি নিবাস তাঁদের জানা নেই।

বাঁদাগাল (থানা—ছাতনা)

ছাতনার এই গ্রামটির চিত্রকরেরা কেউ ছবি আঁকেন না। চারটি চিত্রকর পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়—হীরালাল চিত্রকর, তুলসী চিত্রকর, দশরথ চিত্রকর এবং মদন চিত্রকর।

নোয়াডিহি (থানা—হীড়বাঁধ)

এঁদের পেশা প্রকৃত অর্থে ভিক্ষাবৃত্তি। পট দেখিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করেন। বৃহস্পতিবার এঁদের ছুটির দিন। এদিন এরা পট দেখাতে যান না, কারণ গৃহস্থ বাড়িতে বৃহস্পতিবার ভিক্ষা দিতে চায় না। যমপট, আদিবাসীপট, মদন মোহন পট, কপিলামঙ্গল পট এঁদের ঝুলিতে আছে। আদিবাসী বাড়িতে এঁদের খুব সম্মান। আদিবাসীদের মৃত্যুর পর এরা পটের মাধ্যমে চক্ষুদান করেন বলে আদিবাসীরা এঁদের পুরোহিতের মর্যাদা দিয়ে থাকেন। পনেরো জন চিত্রকরের পরিচয় পাওয়া যায় যারা এখনও ছবি আঁকেন, তবে অনিয়মিতভাবে। কিন্তু ছবির বিক্রি নেই। ভিক্ষার জন্য প্রয়োজনমতো ছবি এঁকে নেয়। এই পনেরোটি চিত্রকর পরিবার হল—মুচিরাম চিত্রকর, শিশির চিত্রকর, অশোক চিত্রকর, স্বপন চিত্রকর, সুনীল চিত্রকর, সুরজ চিত্রকর, রামপ্রসাদ চিত্রকর, প্রদীপ চিত্রকর, দীপক চিত্রকর, উত্তম চিত্রকর, গৌতম চিত্রকর, সাধন চিত্রকর, মদন চিত্রকর, ত্রিলোচন চিত্রকর, শিবু চিত্রকর। এঁদের মধ্যে মুচিরাম চিত্রকর সবচেয়ে প্রবীণ।

এঁদের একটি গুপ্তভাষা আছে, যার মাধ্যমে এরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। বাঁকুড়া জেলার সর্বত্র চিত্রকরেরা এই গুপ্তভাষা জানে। নোয়াডিহির চিত্রকরেরা জানান, এই ভাষার নাম তামরিয়া। এই ভাষার কিছু শব্দ ও অর্থ হল—ডেম্বুর (ঠাকুর), খোগ (বাড়ি), ঝিকি (প্রশাসন), ড্যামা (পুলিশ), চিমা (ছোটছেলে), খোটাচ্ছে (জিজ্ঞাসা করছে) ইত্যাদি।

বিষ্ণুপুর (থানা—বিষ্ণুপুর)

বিষ্ণুপুর শহরের শাঁখারি পাড়ায় ফৌজদার পরিবার বিষ্ণুপুরের রাজা বীর হাম্বীরের সময়কাল থেকে চিত্র এঁকে আসছেন। এরা আঁকেন দশাবতার তাস, নকশা তাস, মৃন্ময়ী দেবী মন্দিরের দুর্গাপট (বড় ঠাকুরানি, মেজো ঠাকুরানি ও ছোট ঠাকুরানি)। এছাড়া এরা আঁকেন জয়পুর থানার কোচিয়াকোল রাজবাড়ির দুর্গাপট। এইসব দুর্গাপটে দুর্গাপূজার সময় পূজা হয়। বর্তমানে আছেন শীতল ফৌজদার এবং বিদ্যুৎ ফৌজদার। বিদ্যুতের পিতা সুধীর ফৌজদার ছিলেন বিখ্যাত চিত্রকর। শীতলবাবু বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরের দুর্গাপট আঁকেন। আর আঁকেন বিষ্ণুপুরের মহাপাত্র বাড়ি, দুই চক্রবর্তী বাড়ির ও কুচিয়াকোল রাজবাড়ির পট। সারা বছর দশাবতার তাস ও প্রয়োজনমতো নকশা তাস আঁকেন। তাতেও সারাবছরের সংস্থান হয় না। তাই মাটির মূর্তিও তোইরি করতে হয়। কখনো পুরানো মূর্তি বা বিগ্রহের ‘অঙ্গরাগ’ করতে হয়। শীতলবাবুর বাবা পটল ফৌজদারও শিল্পী ছিলেন। পরিবারের সকলে মিলে এই কাজ করেন। বাড়ির মেয়েরাও এই কাজে হাত লাগান। নতুন প্রজন্মও এই কাজে আসছে, মেয়েরাও পারদর্শিতা অর্জন করছে—এটাই আনন্দের সংবাদ। বিদ্যুৎ ফৌজদার ও তাঁর স্ত্রী মঞ্জু ফৌজদার কলকাতার দুর্গাপূজার প্যাণ্ডেল সাজানোর বরাত নেন। ভাইপোরাও এই শিল্পে যোগদান করছেন। ফৌজদার পরিবারের পূর্বপুরুষ বিষ্ণুপুর রাজার সেনাবাহিনীতে ছিলেন।

পটের দুর্গা অঙ্কনকারী শিল্পী বিষ্ণুপুর ছাড়াও বাঁকুড়ার আরও কয়েকটি জায়গায় বসবাস করেন। সাধারণৎ দুর্গাপটে পুজো হয় জামকুড়ির মল্লরাজ বাড়ি (পাত্রসায়ের থানা), বিষ্ণুপুরের মহাপাত্র বাড়ি, বনবীর সিংহ চক্রবর্তীর বাড়ি (থানা পাত্রসায়ের), সোনামুখির চেল বাড়ি, চাউলির রায় বাড়ি (সোনামুখি থানা), বারবেন্দ্যার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি (বেলিয়াতোড় থানা), আক্‌খুটা মল্লিকডাঙ্গার মল্লিকবাড়ি (রানিবাঁধ থানা), পার্শ্বলার মল্লিকবাড়ি (সিমলাপাল থানা), কোচরাকোন্দরের মল্লিকবাড়ি (সিমলাপাল থানা)। এই পটের দুর্গার শিল্পীরা সে অর্থে পটুয়া নন। কারণ এরা পট দেখিয়ে বা পটের গান গেয়ে মাঙ্গন করেন না। এটাই এঁদের প্রধান জীবিকা নয়। আক্‌খুটা মল্লিকডাঙ্গা ও পার্শ্বলার মল্লিকবাড়ির পটের দুর্গা শিল্পী বংশী সাইনির বাড়ি খাতড়ার ভারডিয়া গ্রামে। জাতিতে হাড়ি। তাঁর বাবা গেরু সাইনিও শিল্পী ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই তাঁর শেখা। তিনি সারা বছর মাটির মূর্তি, সিমেণ্টের মূর্তি বানান। কাজ না থাকলে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন। নিজের প্রচেষ্টায় তিনি পট আঁকা শিখেছেন। তাঁর পট নিয়ে মল্লিকবাড়ি প্রতি বছর পূজা করেন। এখন ওনাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক। সোনামুখির সুভাষ কর্মকার চেল বাড়ির পটের দুর্গা আঁকেন। পেশায় তিনি অঙ্কন শিক্ষক। বনবীরসিংহ গ্রামের কৃপাময়ী কর্মকার জামকুড়ির মল্লরাজ বাড়ির তিনটি পটের দুর্গা (বড় ঠাকুরান, মাইতর ঠাকুরান ও ছোট ঠাকুরান) এবং চক্রবর্তী বাড়ির পটের দুর্গা আঁকেন। পেশায় তিনি গৃহবধূ, কিন্তু নিয়মিত পটচিত্র আঁকেন। উনি এই শিক্ষা পেয়েছেন শ্বশুর নিতাই কর্মকারের কাছ থেকে। স্বামী গোপাল কর্মকার ছবি আঁকেন না, ব্যবসা করেন। আগে ঐ গ্রামের অনেকেই পট আঁকত। এখন আর কেউ আঁকেন না। একমাত্র কৃপাময়ী দেবী ঐ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বেলিয়াতোড়ের রামপ্রসাদ সূত্রধর বেলিয়াতোড় থানার বারবেন্দ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির পটের দুর্গা আঁকেন। সোনামুখি থানার জগন্নাথপুর গ্রামের স্বপন মালাকার চাউলিয়া গ্রামের রায়বাড়ির দুর্গাপূজার পটটি আঁকেন। আগে ওনার বাবা কানাই মালাকার আঁকতেন। এই দুর্গাপট ছাড়া তিনি অন্য পট আঁকেন না, তবে বরাত দিলে এঁকে দেন।

- Advertisement -

Latest news

ডেঙ্গু বিজয় অভিযান আসানসোলে।

গ্রাম বাংলা, বাঁকুড়া:- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেঙ্গু বিজয় অভিযানের অংশ হিসেবে আজ কুলটিতে ডেঙ্গু বিজয় অভিযান শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যে কুলটি বোরো অফিস...
- Advertisement -

মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে ছাড়া হল জল।

গ্রাম বাংলাঃ মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে নদীতে ছাড়া হল জল। সেচ দফতর সূত্রে খবর, মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে পাঁচ হাজার কিউসেক জল...

সাধনা ও শান্তির স্থান পঞ্চবটির হোল শুভ উদ্বোধন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মাতৃ দর্শনের ঐতিহ্য ও তার সাধনাস্থলের মনোরম পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পঞ্চবটী বনের  শুভ...

জলপাইগুড়ি চা বাগান থেকে উদ্ধার বিশাল অজগর।

সম্পা ভট্টাচার্য, জলপাইগুড়ি:-কালচিনি ব্লকের ডীমা চা বাগান থেকে একটি বিশালাকার অজগর উদ্ধার করল বনকর্মীরা । শনিবার সকালে ডীমা চা বাগানের বীচ লাইনে...

Related news

ডেঙ্গু বিজয় অভিযান আসানসোলে।

গ্রাম বাংলা, বাঁকুড়া:- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেঙ্গু বিজয় অভিযানের অংশ হিসেবে আজ কুলটিতে ডেঙ্গু বিজয় অভিযান শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যে কুলটি বোরো অফিস...

মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে ছাড়া হল জল।

গ্রাম বাংলাঃ মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে নদীতে ছাড়া হল জল। সেচ দফতর সূত্রে খবর, মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে পাঁচ হাজার কিউসেক জল...

সাধনা ও শান্তির স্থান পঞ্চবটির হোল শুভ উদ্বোধন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মাতৃ দর্শনের ঐতিহ্য ও তার সাধনাস্থলের মনোরম পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পঞ্চবটী বনের  শুভ...

জলপাইগুড়ি চা বাগান থেকে উদ্ধার বিশাল অজগর।

সম্পা ভট্টাচার্য, জলপাইগুড়ি:-কালচিনি ব্লকের ডীমা চা বাগান থেকে একটি বিশালাকার অজগর উদ্ধার করল বনকর্মীরা । শনিবার সকালে ডীমা চা বাগানের বীচ লাইনে...
- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here