কাটছাঁট বিশ্বকর্মা পুজোতে, করোনা আবহে মন ভালো নেই মেদিনীপুরের টাটা – চন্দ্রকোনা রোডের

- Advertisement -
- Advertisement -

নিজস্ব সংবাদদাতা,  চন্দ্রকোনা রোড :- বিশ্বত্রাস করোনা র প্রভাবে আমরা অনেক কিছুই হারিয়েছি। কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে আছেন হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী। উৎসব অনুষ্ঠান সবকিছুই কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই করোনা যে বিশ্বকর্মা পুজোতেও মানুষের জীবনের আনন্দকে স্বাভাবিক হতে দেবে না, তা প্রায় নির্ধারিতই ছিল। ফলে মেদিনীপুরের টাটা হিসেবে পরিচিত চন্দ্রকোনা রোডের বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন হচ্ছে নিয়ম রক্ষার।  পুজোর বাজেট অনেক কমে গেছে। তাল মিলিয়ে কমেছে প্রতিমার বাজেট, দশকর্মা সামগ্রীর বাজেট, মন্ডপ, লাইট সজ্জা সবকিছুই হচ্ছে নাম মাত্র। বিগত দিনে বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহ ধরে চলতো নানা রকম অনুষ্ঠান, আলোর রোশনাইয়ে ঝলমল করতো ছারিদিক, সঙ্গীত- নৃত্যের অনুষ্ঠানে ও বড় বড় পুজোর বাহারী মণ্ডপের টানে হাজার হাজার মানুষ পথে নামতেন । এ বছর আর সেরকম কিছুই ঘটবে না, কোনক্রমে দেবতার আরাধনাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে সকলকে। তাই মন ভালো নেই এলাকাবাসীর।

Advertisement

মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা রোড মুলত গাড়ী ও আলু ব্যাবসার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। আর এই ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কোল্ড স্টোর, গাড়ী মেরামতির গ্যারেজ, গাড়ীর সরঞ্জাম ব্যাবসার দোকান ও নানাবিধ অনুসারী শিল্প। ফলত সাক্ষাৎ বিশ্বকর্মার এই পীঠস্থানে বিশ্বকর্মার পুজোর আশায় বছরভর অপেক্ষা করে থাকেন এলাকার কুমোর, প্যান্ডল ব্যাবসায়ী, মৃৎশিল্পী, মাইক ব্যাবসায়ী, দশকর্মা ব্যবসায়ী, সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পীরা।  প্রায় একসপ্তাহ ধরে আলোর রোশনাই, অনুষ্ঠানের আসর, সঙ্গীত-নৃত্যের তালে ভেসে যায় এলাকা। এ বার সবটাই উল্টো, করোনা পরিস্থিতিতে সবাই চাইছেন খুব কম বাজেটে পুজোর পাঠ চুকিয়ে ফেলতে ।

 ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘতর হচ্ছে মৃৎশিল্পী, মাইক ব্যবসায়ী থেকে মন্ডপ ব্যাবসায়ী এমন কি দশকর্মা দোকান গুলির মালিকদেরও।  মালপত্রের দাম বেড়েছে তাই কিন্তু প্রতিমার বায়না সেরকম না থাকায় কম টাকাতেই তা বিক্রি করে কোনরকমে রুটি-রুজির সংস্থান করছেন মৃৎশিল্পীরা। চন্দ্রকোনা রোড এলাকার নয়াবসতের  মৃৎ শিল্পী কার্তিক পাল, কালীপদ ঘোষরা জানান, অন্যান্য বছর চন্দ্রকোনা রোডে যে টাকার ঠাকুর যায়, এবার তার অর্ধেকেরও কম টাকার প্রতিমা যাচ্ছে । ফলে বাড়িতে কারিগর রেখে কাজ করিয়ে লাভ আর কিছুই থাকবে না। মৃৎশিল্পী কার্তিক বাবু বলেন, “করোনার জেরে প্রায় তিন মাস ধরে রুজি রোজকার বন্ধ। ফলে টান পড়েছে সংসারে। আর এদিকে এই বিশ্বকর্মা পুজো তে, প্রতি  বছর ছোটো বড়ো  মিলিয়ে ৪০ – ৫০ টা বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরি করি। কিন্তু এবার বড়ো প্রতিমা তো হচ্ছেই না। ছোটো প্রতিমাও কমে গেছে, সব মিলিয়ে ১৫ টির মতো  প্রতিমা করেছি।  ফলে চরম সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আগামী দিনে কী করবো তা ভেবে পাচ্ছি না।”মৃন্ময়ী মুর্তির কাছে তাদের একটাই প্রার্থনা  খুব দ্রুত এই অতিমারি থেকে সবাই রক্ষা পাক।

Advertisement

এর পাশাপাশি এলাকার মন্ডপ ব্যাবসায়ী, আলো ব্যাবসায়ী, মাইক ব্যাবসায়ীদের সাথে সঙ্গীত, নৃত্য ও চিত্র শিল্পীরাও বেশ সমস্যার মধ্যে আছেন। এলাকার সঙ্গীত শিল্পী জুঁই, সম্পা, সুমনদের বক্তব্য প্রতিবছর এই রোডের বুকেই আমরা প্রত্যেকে প্রায় দশটি করে স্টেজ শো করে থাকি৷ এবছর একটাও বায়না নেই”। চিত্রশিল্পীরা জানান,  “পুজোর মন্ডপ সাজানোর জন্য প্রতি বছরই ডাক পাই এবার কিন্তু কোনো ডাক পড়েনি”। মন্ডপ ও আলো ব্যাবসায়ীদের বক্তব্যও একইরকম। তারা জানান আলোর জন্য বায়না নেই। মন্ডপ যদিও বা কিছু বায়না পড়েছে তা খুবেই কম টাকার। কারন এবার প্র‍ত্যেক পুজো উদ্যোক্তাই মন্ডপ করছেন ছোটো মাপের।

আর যারা বড় পুজোর আয়োজন করতেন, সেই উদ্যোক্তারা জানান, আসলে এবার এই অতিমারির জন্য একটানা তিন মাসেরও বেশী ব্যাবসা বন্ধ। তারপর যদিও বা টুকটাক ব্যাবসা শুরু হয়েছে তাতে লাভের মুখ দেখতে হয়নি। তার উপর প্রশাসনিক ভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে করোনা ঠেকাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। ফলে পুজো জাকজমক করার কথা ভাবলে আর প্রশাসনিক নির্দেশ রক্ষা করা যাবে না। তাই আমরা এবার নাম মাত্র পুজো করছি। বাবা বিশ্বকর্মার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাড়াতাড়ি আমাদের সকল কে এই অতিমারির হাত থেকে উদ্ধার করেন। তাহলে আগামী বছর ফের আবার চন্দ্রকোনা রোড কে পুরানো ছন্দে পাওয়া যাবে।

Advertisement

ফলে এবার মেদিনীপুরের টাটা হিসেবে পরিচিত চন্দ্রকোনা রোড বিশ্বকর্মা পুজোতে আর আনন্দের জোয়ারে ভাসবে না, পাওয়া যাবে না সেই চেনা ছন্দের পরিচিত অনুষ্ঠান মুখর চন্দ্রকোনা রোড কে। স্বাভাবিক ভাবেই মন ভালো নেই তাদের।

- Advertisement -

Latest news

ডেঙ্গু বিজয় অভিযান আসানসোলে।

গ্রাম বাংলা, বাঁকুড়া:- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেঙ্গু বিজয় অভিযানের অংশ হিসেবে আজ কুলটিতে ডেঙ্গু বিজয় অভিযান শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যে কুলটি বোরো অফিস...
- Advertisement -

মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে ছাড়া হল জল।

গ্রাম বাংলাঃ মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে নদীতে ছাড়া হল জল। সেচ দফতর সূত্রে খবর, মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে পাঁচ হাজার কিউসেক জল...

সাধনা ও শান্তির স্থান পঞ্চবটির হোল শুভ উদ্বোধন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মাতৃ দর্শনের ঐতিহ্য ও তার সাধনাস্থলের মনোরম পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পঞ্চবটী বনের  শুভ...

জলপাইগুড়ি চা বাগান থেকে উদ্ধার বিশাল অজগর।

সম্পা ভট্টাচার্য, জলপাইগুড়ি:-কালচিনি ব্লকের ডীমা চা বাগান থেকে একটি বিশালাকার অজগর উদ্ধার করল বনকর্মীরা । শনিবার সকালে ডীমা চা বাগানের বীচ লাইনে...

Related news

ডেঙ্গু বিজয় অভিযান আসানসোলে।

গ্রাম বাংলা, বাঁকুড়া:- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেঙ্গু বিজয় অভিযানের অংশ হিসেবে আজ কুলটিতে ডেঙ্গু বিজয় অভিযান শুরু হয়। এই উদ্দেশ্যে কুলটি বোরো অফিস...

মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে ছাড়া হল জল।

গ্রাম বাংলাঃ মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে নদীতে ছাড়া হল জল। সেচ দফতর সূত্রে খবর, মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে পাঁচ হাজার কিউসেক জল...

সাধনা ও শান্তির স্থান পঞ্চবটির হোল শুভ উদ্বোধন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরের মাতৃ দর্শনের ঐতিহ্য ও তার সাধনাস্থলের মনোরম পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পঞ্চবটী বনের  শুভ...

জলপাইগুড়ি চা বাগান থেকে উদ্ধার বিশাল অজগর।

সম্পা ভট্টাচার্য, জলপাইগুড়ি:-কালচিনি ব্লকের ডীমা চা বাগান থেকে একটি বিশালাকার অজগর উদ্ধার করল বনকর্মীরা । শনিবার সকালে ডীমা চা বাগানের বীচ লাইনে...
- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here