হাওড়াঃ- তৃণমূল কংগ্রেস ‘ভাইপো রোগে’আক্রান্ত। এই ‘ভাইপো রোগ’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, না হলে সবকিছু চলে যাবে—এমনই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। কংগ্রেস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কংগ্রেসের অভ্যাসই এমন। প্রথমে তারা বন্দে মাতরমকে খণ্ডিত করেছিল, তারপর দেশ খণ্ডিত হয়ে গেল। শুরু থেকেই কংগ্রেস কখনও বন্দে মাতরমকে স্বাগত জানায়নি।”

বীরভূমের তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন সুকান্ত মজুমদার। রবিবার শিবপুরের IIEST-এ ১,০০০ পড়ুয়ার থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ছাত্রাবাস ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, কোনও মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করতে চান না। তিনি যখন তাঁর পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। সেই সময়ের বহু স্মৃতি তাঁর মনে পড়ছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেন হয়েছে এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এদিনই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেন, শক্তিগড়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আবার ‘থ্রেট কালচার’ ফিরিয়ে আনছে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপি ‘থ্রেট কালচারে’ বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নাকি সুইসাইড নোটে বেশ কিছু কথা লিখে গিয়েছেন। তবে তাঁর আশপাশে থাকা মানুষজনের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে খোঁজ নিলে অনেক কিছু জানা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে ‘ভাইপো রোগে’ আক্রান্ত। এই ‘ভাইপো রোগ’ থেকে তৃণমূলকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, তৃণমূল যদি ‘ভাইপো’র মোহে আটকে থাকে, তাহলে সবকিছুই চলে যাবে। তাঁর ভাষায়, “উনি সব ছাড়েন, আর ভাইপো সব ধরেন।”নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, নাকাশিপাড়া ছাড়াও বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তাঁর বক্তব্য, কে তৃণমূল আর কে ‘অন্য মূল’—সেটাও এখন স্পষ্ট নয়।

