দমকলকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে; হোটেল এবং লজ গুলি কার্যত জতুগৃহ!

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ- হাওড়া স্টেশন লাগোয়া হোটেল এবং লজ গুলি কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় বসতবাড়িকে হোটেল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘিঞ্জি ঘর গুলোতে বাইরে থেকে অতিথিরা সেখানেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পুরানো বাড়িতে যেখানে সেখানে ঝুলছে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার। যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। হুঁশ নেই প্রশাসনের।

দমকলের আগুন নির্বাপন আইনকে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া হোটেল গুলিতে রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। এখানে ছোট বড় প্রায় ২০০ হোটেল আছে।

স্টেশন লাগোয়া ডবসন লেনের একটি পাঁচ তলা বাড়ির প্রত্যেকটি ফ্লোরে আলাদা আলাদা লজ বা হোটেল রয়েছে। আগে এটা বসতবাড়ি থাকলেও বর্তমানে গোটা বাড়িতেই হোটেল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাওড়া স্টেশনে কাছে হওয়ায় এই হোটেলগুলিতে সারা বছর অতিথিদের ভিড় লেগেই থাকে। এই হোটেল গুলির সিঁড়ি দমকল আইন অনুযায়ী ২.৫০ মিটার বলা থাকলেও কার্যত প্রস্থ এক মিটার নয়। পাঁচতলা বাড়ি হলে কমপক্ষে দুটি এক্সিট পয়েন্টের কথা বলা থাকলেও একই সিঁড়ি দিয়ে ওটা নামা করছেন অতিথিরা। আইন অনুযায়ী ছাদে ১০,০০০ লিটারের ট্যাংক বা আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার এর কথা বলা থাকলেও সেখানে কার্যত কিছুই নেই। নেই স্প্রিঙ্কলার, হোস পাইপ এবং ফায়ার এলার্ম সিস্টেম। ইলেকট্রিক্যাল শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে বেরোবার কোন পথ না থাকায় যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। এমনটাই মনে করছেন এখানকার কর্মীরা। অনেক ছোট ছোট লজ বা হোটেলে দমকলের লাইসেন্সটুকু পর্যন্ত নেই।

যদিও দমকল এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হোটেল গুলিতে মাঝে মাঝে নোটিশ দেওয়া হয়। অগ্নি নির্বাপন বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখা হয়। তবে হোটেল কর্মীরা জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা পরিদর্শনে আসেন না।

তারাপীঠ এবং কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু মিছিল। হাওড়া স্টেশন লাগোয়া হোটেল গুলিতে যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজর না দেওয়া হয় তবে সে ক্ষেত্রে তো ঘটে যেতে পারে বড়সড় বিপদ।